সুনামগঞ্জ , বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ , ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা: সুনামগঞ্জের ডিসি ইলিয়াস মিয়া পুত্রের মুক্তি দাবিতে পিতার সংবাদ সম্মেলন শ্রেণিকক্ষে তালা দিলো বিএনপি নেতার ছেলে ডিলারের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কৃষকদলের আবেদন বাঁধের কাজে বিলম্বে উদ্বেগ, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামালগঞ্জে রাঈদ মাহমুদ স্মৃতি মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত গ্রিনল্যান্ড আমাদের লাগবেই : ট্রাম্প সিলেট নয়, বগুড়া থেকে শুরু হতে পারে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম ভূমিকম্পে কাঁপলো সিলেট প্রার্থীদের হলফনামায় দুদকের নজর রয়েছে : দুদক চেয়ারম্যান নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাতকে মানববন্ধন শান্তিগঞ্জে উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ লাফার্জ হোলসিম কোম্পানির শব্দদূষণ কনভেয়ার বেল্টের শব্দে অতিষ্ঠ ১০ গ্রামের মানুষ লঞ্চঘাটে দখলমুক্ত সরকারি ভূমি পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জামালগঞ্জে ডেভিল হান্ট (ফেইজ-২) অভিযানে গ্রেফতার ২ শাল্লায় ১২৪টি প্রকল্পে কোনো অগ্রগতি নেই সরকারি সার বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে নিয়ম রক্ষার উদ্বোধন, ২০ দিনেও শুরু হয়নি কাজ শান্তিগঞ্জে ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’ উপজেলা কমিটির অভিষেক সাংবাদিকতায় চার দশক পূর্তিতে আকরাম উদ্দিনকে সংবর্ধনা

সাবেক ছাত্রদল নেতাদের মনোনয়নে তৃণমূলে উচ্ছ্বাস

  • আপলোড সময় : ০৩-০১-২০২৬ ০৯:২৭:৪২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৩-০১-২০২৬ ০৯:৩০:২৭ পূর্বাহ্ন
সাবেক ছাত্রদল নেতাদের মনোনয়নে তৃণমূলে উচ্ছ্বাস
স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে চারটি আসনে ‘মেইড ইন ছাত্রদল’ খ্যাত চার সাবেক ছাত্রদল নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় উচ্ছ্বসিত তৃণমূল।
তারা হলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-২ আসনে এডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে কয়ছর এম আহমদ ও সুনামগঞ্জ-৪ আসনে এডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল।
এই ছাত্রনেতারা স্কুল, কলেজ, উপজেলা ও জেলা ছাত্রদলে নেতৃত্ব দিয়ে আজ স্থানীয়ভাবে জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রকৃত যোদ্ধা হিসেবে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে আলাদাভাবে পরিচিত। বহুদিন পরে প্রকৃত জাতীয়তাবাদী আদর্শের যোদ্ধাদের মনোনয়ন দেওয়ায় নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত।
গত ২৯ ডিসেম্বর দলীয় মনোনয়ন দানকালে তাদের পক্ষে জনতার ঢল নেমেছিল।
সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) নির্বাচনী এলাকা সম্পদ ও সম্ভাবনায় এগিয়ে থাকা এলাকা। এই আসনে প্রথমে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আনিসুল হককে। মেইড ইন ছাত্রদল খ্যাত তরুণ জনপ্রিয় নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলকে মনোনয়ন না দেওয়ায় মনোনয়ন পুনঃবিবেচনার দাবিতে প্রতিদিন নির্বাচনী এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে। সাংগঠনিক নানা জরিপ ও দাবির প্রেক্ষিতে মনোনয়ন জমাদানের আগের দিন সংযুক্তি দিয়ে কামরুজ্জামান কামরুলকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরদিন দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় মনোনয়ন জমা দেন তিনি। নেতাকর্মীরা জানান, স্কুল ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে নব্বই দশকের শেষে আলোচনায় আসেন কামরুল। পরবর্তীতে তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলে নেতৃত্ব দেন। বর্তমানে জেলা বিএনপিতে যুক্ত রয়েছেন। ২০১৮ সালে (বর্তমানে বিএনপির প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী) আনিসুল হককে পরাজিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কামরুল। ওই নির্বাচনে ভোটাররা চাঁদা তুলে তার নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করেন। এবারও তার প্রতিটি রাজনৈতিক সমাবেশ চাঁদা তুলে আয়োজন করেন নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মী ও লোকজন। বিভিন্ন সময়ে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ আন্দোলন, বারকি শ্রমিকদের আন্দোলন, কৃষক আন্দোলনসহ নানা আন্দোলনে তিনি যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় নিজ এলাকার বালু ও পাথর মহালে চাঁদাবাজি ও মবতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার বক্তব্য দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি প্রায় ১ বছর জেল খাটেন এবং এক ডজন মামলার আসামি ছিলেন। কিন্তু তিনি প্রাথমিক মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন নির্বাচনী এলাকার জনগণ। তারা মাঠ দখলে রেখে প্রতিদিন সভা সমাবেশ করে মনোনয়ন পুনঃবিবেচনার দাবি জানিয়েছিলেন। ২১ নভেম্বর বিএনপির হাইকমান্ড কামরুলকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে মাঠে কাজ কার পরামর্শ দেন। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন জমাদানের আগের দিন তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। শেষ সময়ে এসে কেন্দ্র তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে পড়ে তৃণমূল। এখন তার পক্ষে নির্বাচনী এলাকার জনগণকে স্বতঃস্ফূর্ত কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয় সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে। জনপ্রিয় এই জননেতা বয়সের ভারে ন্যূব্জ। এই আসনে মনোনয়ন জমাদানের আগের দিন দিরাই উপজেলা, সুনামগঞ্জ জেলা ও এমসি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক নেতা এডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন।

সুনামগঞ্জ-৩ (শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনে দলীয় চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নির্যাতিত নেতা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ। তার হাত ধরেই জগন্নাথপুর উপজেলায় ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে যাত্রা করেছিল। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মেইড ইন ছাত্রদল খ্যাত এই নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা খুশি।

সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জেলা ছাত্রদল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুলকে। রাজপথের সাহসী সৈনিক হিসেবে পরিচিত সাবেক এই তারকা ছাত্রনেতা তৃণমূলে ব্যাপক জনপ্রিয়। আওয়ামী লীগ সরকার তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। তারপরও তিনি রাজপথে নেতাকর্মীদের নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় খুশি তৃণমূল। এখন প্রতিদিন তার পক্ষে নির্বাচনী এলাকার সর্বত্র সমাবেশ করছেন নেতাকর্মীরা।

সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, জাতীয়তাবাদী আদর্শের পাঠশালা হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আমি স্কুল ছাত্রদল থেকে উপজেলা ও জেলায় নেতৃত্ব দিয়ে সেই আদর্শ রপ্ত করেছি। জাতীয়তাবাদী শক্তির পরীক্ষিত হিসেবে এ কারণে বারবার আমি নির্যাতিত হয়েছি। তারপরও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। শেষ পর্যন্ত আমাদের নেতা তারেক রহমানসহ বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ মাঠের জরিপ বিবেচনায় নিয়ে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এখন আমার লক্ষ্য ধানের শীষকে এই আসনে বিপুল ভোটে বিজয় নিশ্চিত করা।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল বলেন, ছাত্রদল আমার রাজনীতির আঁতুড়ঘর। ছাত্রদল করার কারণেই আজ আমি এই অবস্থানে এসেছিল। দল আমাকে যে মূল্যায়ন করেছে সেই মূল্যায়নের একমাত্র লক্ষ্য ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা। আমি সেই লক্ষ্যেই সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করছি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স